ব্লগ দিবস নিয়ে সর্বশেষ আপডেট পোস্ট পড়ুন হাসিব নীড়পাতা ব্লগ থেকে।
১.
বারো মাসে তেরো পার্বণ আয়োজনে বাঙালির সুখ্যাতি আছে আগেই । আগের যুগে এই পালা পার্বণগুলোর দিন কাল আচার ইত্যাদি ঠিক করতো মোল্লা-পুরুতের দল । কোথায় কবে চাঁদ, লগ্ন ইত্যাদি হলে কি করতে হবে সেটার বিধান করতেন তারা । এ মুহুর্তে পুরনো উদযাপনগুলোর মধ্যে নতুন বছরের হালখাতা ছাড়া ধর্ম থেকে নয় এরকম কোন দিন খুঁজতে ঐতিহাসিকদের দারস্থ হতে হবে ।
আধুনিক ইতিহাসে বাঙ্গালি নিজের জাতিস্বত্ত্বার অস্তিত্ব খুঁজে পাবার পর এই ধর্মভিত্তিক পার্বণগুলোর পাশাপাশি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন কিছু ঐতিহাসিক দিনগুলোকে উদযাপন করতে শুরু করে । বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন সম্ভবত এই ক্যাটেগরিতে প্রথম দিকে পড়বে । এর ধারাবাহিকতায় বাঙালি ইতিহাসের হাত ধরে আরো কিছু দিনকে খুজে নেয় উদযাপনের জন্য । যেমন – স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বুদ্ধিজীবি দিবস ইত্যাদি । ঐতিহাসিকভাবে এইসব দিনগুলোর কোনকোনটির ইতিহাসে শোকের প্রলেপ থাকলেও কালের বিবর্তনে এগুলো এখন উৎসবের চেহারা নিয়েই হাজির হয় । একুশে ফেব্রুয়ারির জমায়েত ও সেগুলোর চেহারা চরিত্র দেখলেই এ বিষয়টা পরিস্কার হবে । এগুলোর পরে নব্বুই দশকে বাঙ্গালির পার্বণ সংস্কৃতিতে এনজিও সংস্কৃতির আমদানি হয় । বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবসের প্রবেশ ঘটে সংস্কৃতিতে । দিবসগুলোতে ঘটা করে রেলি বের করে সেটার ছবি ভিডিও ইত্যাদি তুলে এদিক ওদিক থেকে ফান্ড যোগানেই মূল উদ্দেশ্য এদের । এই সংস্কৃতি এখনও বলবত আছে ।
২.
এই এনজিও সংস্কৃতির সাথে যাযাদির শফিক রেহমান চালু করেন ভালোবাসা দিবসের কনসেপ্ট । সাম্প্রতিক সময় চালু হওয়া এটাই সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় পার্বণ । একসময়ের স্বৈরাচার বিরোধী শফিক রেহমানের এই উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৩/র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের আত্মদান পুরো ঢেকে ফেলে ।